মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিটির আয়োজন ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
আয়োজনে অংশগ্রহণ করে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক শামীমা সুলতানা বলেন, দল-মত নির্বিশেষে, সবারই অংশগ্রহণে আমি চেয়েছি যে, আজকে যে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রাটা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রের, সেই রাষ্ট্রের যেন আমরা সবাই অংশীজন হতে পারি এবং আমরা যেন একটি সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি। একটি সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশাতেই আমার এই ডাক দেওয়া যে, সবাইকে একত্রিত করা।
এখানে দল-মত নির্বিশেষে এবং বর্ণ নির্বিশেষে সবাই উপস্থিত হয়েছেন, সেজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজকে যিনি রাষ্ট্রনায়ক হতে চাচ্ছেন, তার প্রতি যে আমাদের অনুরোধটা থাকবে, এই দেশটা যেন আমাদের সবার হয়ে ওঠে। আমরা যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম, এই দেশটাতে সকল ধরনের নারী-পুরুষ, সকল ধরনের বৈষম্য দূর হোক, সেজন্যই আসলে আমরা এই প্রথমেই, আমরা এরকম করে দল-মত নির্বিশেষে, হিন্দু-মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আমরা এই জাতীয় সংগীত দিয়েছি। আমার দেশটা ভালো থাকুক, সেটাই আমাদের একমাত্র ইচ্ছা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সবসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দুঃসময়ে অথবা অন্য কোনো সংকট তৈরি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবার আগে প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটা সবাই জানে। আজকে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করছে। নতুন সূর্য উঠেছে। আমি শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১-এ যারা রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে আমাদেরকে এই দেশ উপহার দিয়েছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং ২০২৪-এ যারা এই অসুস্থ স্বাধীন বাংলাদেশকে আবার সুস্থতার পথে ধাবিত করার জন্য প্রাণ দিয়েছে, এখনো পঙ্গু হয়ে হাসপাতালে জীবনের সাথে যুদ্ধ করছে, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।'
তিনি আরও বলেন, 'নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য, আমরা যে প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম, আমাদের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলাম, আমরা আজকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবার জাতীয় সংগীতের আয়োজন করে, আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা জানি, আমাদের জেনজি যে রক্ত দিয়ে পরিবর্তনের এই সুযোগটি এনে দিয়েছে, আমাদের অভিভাবকেরা সেই সুযোগটি কাজে লাগাবে। আর সেই অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করার জন্যই জাতীয় সংগীতের আজকের আয়োজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।'
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুল আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম, আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তামান্না আজিজ তুলিসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সদস্য-সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ অন্যান্য ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।