জাবি শিক্ষকের পর এবার ছাত্রদল নেতার মারধরের শিকার বাসচালক

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষকের হাতে বাসের কাঁচ ভাঙচুর ও চালক–যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনার মীমাংসা হওয়ার পর ভুক্তভোগী সেই বাসচালককে আবারও মারধরের অভিযোগ উঠেছে জবি শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন জাবির ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা। আর চালককে পুনরায় মারধরের অভিযোগ ওঠা ছাত্রদল নেতা মো. জাবের একই বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে ডেইরি গেট এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সাভার পরিবহনের একটি বাস। এ সময় মোটরসাইকেলে করে বাসটি অতিক্রম করতে গিয়ে পাশ দিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান চলে আসায় হঠাৎ ব্রেক করেন পলাশ সাহা এবং পড়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাসে উঠে চালকের চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চালক রাজি না হলে হেলমেট দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন।

ভাঙা কাঁচের আঘাতে বাসচালক তারেক চৌধুরীর মাথা ফেটে যায় এবং বাসে থাকা এক নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যায়, পাশাপাশি মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে শিক্ষক পলাশ সাহা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রক্টর অফিস থেকে চালককে বাসে তুলে দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আইবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জাবেরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী বাসটি থামিয়ে চালককে পুনরায় মারধর করে এবং তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। সিসিটিভি ফুটেজে জাবেরকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাস থামিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আহত নারী যাত্রীর বাবা বলেন, ‘শিক্ষক নিজে পড়ে গিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হন। তার আচরণে আমার মেয়ের আঙুল ভেঙেছে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’

বাসচালক মো. আতিক চৌধুরী বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী হয়েও একাধিকবার মারধরের শিকার হয়েছি। সবার সামনে আমাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে আবার বাসে ওঠার সময় কয়েকজন ছাত্র আমাকে হুমকি দেয় ও মারধর করে। শ্রমিক হিসেবে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।’

অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা বলেন, ‘বাসটি রাস্তার মাঝখানে ছিল। পড়ে গিয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। শিক্ষক হিসেবে এটা আমার ঠিক হয়নি, আমি ভুল স্বীকার করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। চালককে পুনরায় মারধরের বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, শিক্ষক পলাশ সাহার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা মো. জাবেরের বিরুদ্ধেও আবাসিক হলের ছাদে মাদক সেবনের অভিযোগে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে