ট্রাম্প বলেন, 'ইরানে যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, এমন খবরের মধ্যেই এখন ফাঁসির কথা শোনা যাচ্ছে। এর পরিণতি কী হতে পারে, তা তারা বুঝতে পারবে।'
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, 'যুক্তরাষ্ট্রের এই খেলার বই আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও ব্যর্থ হবে।'
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, টানা কয়েক রাতের বিক্ষোভের পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য ভিন্ন। তাদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা নিহত হচ্ছেন এবং পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি রেখে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে।
আইএইচআর আরও জানায়, কারাজ শহরে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ বা ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বুধবারই তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে (যেগুলোর অবস্থান এএফপি যাচাই করেছে) তেহরানের দক্ষিণে কাহরিজাক মর্গে কালো ব্যাগে মোড়ানো মরদেহ সারিবদ্ধভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে সেখানে ভিড় করছেন উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইরানের দমন-পীড়নের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, ইরানে ক্রমবর্ধমান প্রাণহানি ভয়াবহ। দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণাও দেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর ডজনখানেক সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের জানাজা সরকারপন্থী বড় সমাবেশে রূপ নিয়েছে। বুধবার তেহরানে ‘শহীদদের’ জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে গণ-জানাজার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিক্ষোভ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিপ্লবী গার্ডসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো হাতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পতন ঘটবে কি না, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।