পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বিসিবি। এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এখানেই শেষ নয়, বরং নতুন করে সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন। বিসিবি কি আদৌ কোনো পরিচালককে সরানোর ক্ষমতা রাখে?
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো পরিচালককে ইচ্ছামতো অপসারণ করার সুযোগ বোর্ডের নেই। একজন পরিচালক তখনই পদ হারাতে পারেন, যদি তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেন অথবা নির্দিষ্ট কিছু আইনি ও প্রশাসনিক কারণ সৃষ্টি হয়। যেমন: মৃত্যুবরণ, মানসিক ভারসাম্য হারানো, দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হওয়া, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি পাওয়া, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা কিংবা অন্য কোনো ফেডারেশনের পদ গ্রহণ করা। এর বাইরে আইনত পরিচালক পদ শূন্য করার ক্ষমতা বিসিবির নেই।
অর্থাৎ, বোর্ডের হাতে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা খুবই সীমিত। শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নিতে হলেও তা শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ দিয়ে আপাতত সংকট সামাল দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে বিসিবি।
তবে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এম নাজমুল ইসলাম কি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন, নাকি বিসিবি আরও কঠোর শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপের পথে হাঁটবে? ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুরো ঘটনার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টির ওপর নজর রাখবে।
সব মিলিয়ে, এম নাজমুল ইসলাম ইস্যু শুধু একজন পরিচালকের বিতর্কেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি বিসিবির গঠনতন্ত্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার দিকেও নতুন করে আলো ফেলেছে।