ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করার কীর্তি গড়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা স্ট্রাইকারের হাতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ওঠার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর পুরুষদের ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানটি ইংল্যান্ডে ফিরেছে। এর আগে ২০০১ সালে এ পুরস্কার জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। নিজের শহরে এমন স্বীকৃতি পাওয়াকে ক্যারিয়ারের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক।
পুরস্কার জয়ের পেছনে কেইনের ক্লাব পারফরম্যান্সকে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেন তিনি। ক্লাবটির বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৭৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের জার্সিতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন কেইন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে দলকে তৃতীয় স্থান অর্জনে সহায়তা করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কেইনের সঙ্গে ছিলেন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা। তবে মৌসুমজুড়ে গোল করার ধারাবাহিকতা এবং দলীয় সাফল্য কেইনকে এগিয়ে রাখে।
টটেনহাম হটস্পার ছেড়ে ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। জার্মান ক্লাবটিতে এসে ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলীয় শিরোপাও জিতেছেন তিনি। এর আগে ইংল্যান্ডের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল এবং টটেনহামের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যালন ডি’অর জয়কে তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর কেইন বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর কাছে সব সময়ই বিশেষ বিষয়। ইংল্যান্ডের একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের শহর লন্ডনে এই সম্মান অর্জন করাকে তিনি অসাধারণ অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।
নারীদের বিভাগে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসের ক্ষেত্রে। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও পুরস্কারটি জিতেছিলেন বার্সেলোনার এই তারকা। দীর্ঘমেয়াদি চোটের বাধা পেরিয়ে আবারও শীর্ষ স্বীকৃতি পাওয়াকে তাঁর ক্যারিয়ারের বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পুরুষদের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। অন্যদিকে, স্পেনের বিশ্বকাপ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরুষদের বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। নারীদের বর্ষসেরা কোচের সম্মান পেয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ।
পুরুষদের বর্ষসেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। পাশাপাশি পুরুষ ও নারী বিভাগে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে উনাই সিমন ও কাতা কোল।
সদ্য সংবাদ/এসএস