চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে কয়েকজনকে ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ আখ্যা দিয়ে তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ‘সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজের’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ বলতে এমন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীদের বোঝানো হয়, যারা উন্নয়ন ঋণ, নীতি-পরামর্শ ও করপোরেট চুক্তির আড়ালে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, অসম চুক্তি ও কৌশলগত বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের কৌশলগত সম্পদ, অর্থনৈতিক নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজের পক্ষে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চুক্তিতে ইজারা দিতে ঠিক নির্বাচনের আগমুহূর্তে সরকার অতিরিক্ত তৎপরতা দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, এই টার্মিনাল হস্তান্তর না করতে পারলে সরকারের ঘোষিত মিশন ও ভিশন ব্যর্থ হয়ে যাবে—এমন মনোভাব থেকেই এই তাড়াহুড়া।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে চার ব্যক্তি বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নিয়ে নিউমুরিং টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার পক্ষে তাঁরা নানাভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুধু বন্দরকেন্দ্রিক নয়, এর সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূখণ্ডও জড়িত। তাঁর আশঙ্কা, পাহাড়ি অঞ্চলের জমি ও স্বার্থও এতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ জন্য দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।