চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নগরীতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এবার অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে চউক।
মঙ্গলবার নগরীর বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকায় চউকের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সহযোগিতা করে।
অভিযান চলাকালে কল্পলোক আবাসিক এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক (প্লটের সীমানা থেকে নির্ধারিত খালি স্থান) না রাখা, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) এবং অন্যান্য অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মোট ১১টি স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত ৭টি বহুতল ভবন ও একটি অনুমোদনহীন গুদাম সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে সিলগালা করা স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া তিনজন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা উচিত নয়। অন্যথায় আইন অনুযায়ী তা ভেঙে ফেলতে চউক বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গঠনে চউক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে পরিচালিত হবে।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের অথরাইজড অফিসার-২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদ এবং সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকরা।