চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলে অবৈধভাবে সিট দখলের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে হল থেকে টেনে নিয়ে পাহাড়ে তুলে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিফাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের চবি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সদস্য এম. মিজানুর রহমানকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে এ হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. সিফাতুল ইসলাম নিজেকে তার সহপাঠী ও ছাত্রদল কর্মী আব্দুস সালাম সালমান পরিচয় দিয়ে ফোন করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি দেন। সংশ্লিষ্ট ফোনালাপের একটি অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে, যেখানে সাংবাদিককে হল থেকে টেনে নিয়ে পাহাড়ে মারধরের হুমকি দেওয়া শোনা যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মিজানুর রহমান বলেন, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে অবৈধভাবে অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরেই এ হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সংবাদে ভুল থাকলে প্রতিবাদলিপি বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্য হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযুক্ত মো. সিফাতুল ইসলাম হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ফোন ব্যবহার করে আব্দুস সালাম সালমান এ কল দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সংবাদটি অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতা নীতিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
চবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্র বলেন, সাংবাদিককে সরাসরি হুমকি দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। গণমাধ্যমকর্মীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।