সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল, চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাভেল বাংলাদেশে ফিরছেন, এমন তথ্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাওয়ার পর ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় সাভার মডেল থানা পুলিশ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। দুপুরে বিমানে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ পাভেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার পুকুরপাড় গ্রামের হেফজু মিয়ার ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পতিত উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলন চলাকালে মনজুরুল আলম রাজীবের সঙ্গে সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তোতলা পাভেল। ঘটনার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন করে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ শেষে সর্বশেষ চীনে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে সম্প্রতি তিনি চীন থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় ভারত হয়ে পর্তুগাল ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায়ও জড়িত ছিলেন তিনি।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মার্কেটে দোকান দখল, চাঁদা দাবি ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর হামলা, সাভার পৌরসভার আনন্দপুর সিটিলেন এলাকায় ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী চুন্নুর প্রতিষ্ঠানে গুলি চালিয়ে ১০ লাখ টাকা ছিনতাই, ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রকিকে অপহরণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়সহ একাধিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতনের মামলাতেও তিনি আসামি।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত ছাত্রদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলী বলেন, “মোহাম্মদ পাভেল সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের করা পাঁচটি হত্যা মামলা সহ মোট ১৩ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।”