মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'ভোট জনগণের ভবিষ্যৎ রচনার অক্ষর। ভোট বাক্সে ভোট জমা দিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব নয়। আপনার ভোট আপনি সযত্নে ভোট বাক্সে দিয়ে আসুন। কেউ বাধা সৃষ্টি করলে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতা নিন।'
তিনি আরও বলেন, 'ভোটের ওপর নির্ভর করছে আমাদের সবার, এমনকি আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎও। তাই যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। ভোট রক্ষা করা দেশ রক্ষা করার সমান দায়িত্ব।'
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, 'ভোট দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গাড়ির চাকা। এই চাকা কাউকে চুরি করতে দেওয়া যাবে না।'
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে কিছু রদবদল করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন কোনো অনুরাগ বা বিরাগ থেকে নয়; বরং দক্ষতা, যোগ্যতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতেই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'সরকারের লক্ষ্য একটাই—দেশের প্রতিটি ভোটার যেন নিরাপদ পরিবেশে, ভয়মুক্ত মনে এবং সর্বোচ্চ স্বাধীনতায় ভোট দিতে পারেন।'
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
ভাষণে তিনি বলেন, 'এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আমরা কেমন রাষ্ট্র চাই এবং নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার গতি।'
শেষে ড. ইউনূস বলেন, 'সরকার চায় এই নির্বাচন হোক সত্যিকার অর্থে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'