সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীরা তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিলে ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’সহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই দিনই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন এবং একপর্যায়ে জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করেন। পরদিন শুক্রবারও তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকে।
শনিবার (১৬ মে) শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’ পালন করেন। এ সময় শিবির-সমর্থিত ও ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে বিষয়টি ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা করেন।
এরপর রোববার (১৭ মে) দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি, একাডেমিক কাঠামো, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বেশি থাকায় তাঁরাই কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
আন্দোলন ঘিরে স্থানীয় ও ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সুস্পষ্ট অবস্থান না মিললেও দুই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।