বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গৃহে, চলাচলে ও কর্মস্থলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের হাতে দেশ গড়ার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি ফুলের বাগান—যেখানে ধর্ম, দল কিংবা গায়ের রঙের ভিত্তিতে নয়; বরং যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগামী ১২ তারিখ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি ২৪ হাজার ছেলেমেয়ের পঙ্গুত্বের নির্বাচন, আয়নাঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পরের নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে দুইটি ভোট হবে। প্রথমটি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। যারা আবার আমাদের গলায় গোলামির শিকল পরাতে চায়, তারাই কেবল ‘না’ ভোটের কথা বলতে পারে।”
জামায়াত আমীর আরও বলেন, “আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আমাদের অঙ্গীকার—যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া।”
তিনি জানান, জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে জামালপুরের উন্নয়নে স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপন, ডাবল রেললাইন, নদীভাঙন রোধ, মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ সব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা প্রতি বছর নিজেদের এবং পরিবারের আর্থিক হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
পরে জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াতের আমীর।
জামালপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল।
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।