উঠানে দাদি, সরিষা ক্ষেতে নাতনি: পাবনায় জোড়া হত্যার রহস্য কী?

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
নরসিংদীতে বাবা-মেয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে ঘিরে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পরে বিবস্ত্র অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ ফেলে রাখা হয় সরিষা ক্ষেতে।

আজ শনিবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে বাড়ির উঠান থেকে দাদি সুফিয়া বেগম (৬৫)–এর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের সরিষা ক্ষেত থেকে তার নাতনি জামিলা (১৫)–এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, দাদিকে হত্যার পর জামিলাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রহস্যের জট খোলেনি। কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। তাদের দাবি, তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে।

নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর কেউই হত্যার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁদের ভাষ্য, সুফিয়া বেগম বা জামিলার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। জামিলার সঙ্গে কারও সম্পর্ক ছিল কি না কিংবা কোনো বখাটের উৎপাত ছিল—এমন অভিযোগও তারা জানেন না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুফিয়া বেগমের স্বামী নজিমুদ্দিন সাত বছর আগে মারা যাওয়ার পর নাতনি জামিলাকে নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করতেন তিনি। সুফিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জামিলা তার ছেলের সন্তান। পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই দাদির সঙ্গেই থাকত সে। তিন বোনের মধ্যে জামিলা ছিল সবার ছোট; বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে খাওয়া শেষে দাদি ও নাতনি ঘুমিয়ে পড়েন। মধ্যরাতের পর হঠাৎ বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা রাস্তায় বের হলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে যাননি। কিছুক্ষণ পর কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। সকালে বাড়ির প্রবেশমুখে সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নাতনির খোঁজ করতে গিয়ে বাড়ির পেছনের সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় জামিলার মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ সময় সেখানে আশপাশের গ্রামের মানুষের ভিড় জমে যায়। স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত গ্রামবাসী; কেউই বুঝে উঠতে পারছেন না, কারা এত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, মধ্যরাতের পর কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে জামিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। দাদি বাধা দিলে প্রথমে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জামিলাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ির পেছনের সরিষা ক্ষেতে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

প্রতিবেশী নাসিমা খাতুন জানান, নিহত সুফিয়া বেগমের সঙ্গে গ্রামের কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি বলেন, জামিলা কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ও হাফেজ ছিল। গ্রামের গৃহবধূদের নিয়ে তারাবির নামাজ পড়াত সে। তাঁর মতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

সুফিয়া বেগমের বোন কুরসী খাতুন বলেন, সকালে এসে দেখেন তাঁর বোনের মরদেহ গেটের সামনে পড়ে আছে এবং নাতনির মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির পেছনে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মেয়েটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তিনি জড়িতদের কঠোর বিচার চান।

জামিলার বড় বোন মিনু খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর দাদি ও বোনের কোনো শত্রু ছিল না। তারা কারও ক্ষতি করেনি। তবু কারা এমন সর্বনাশ করল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ। পরে সেখানে সিআইডির একটি দলও যায়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে জামিলাকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং দাদি বাধা দেওয়ায় তাকেও হত্যা করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি জঘন্যতম ঘটনা। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কাজ করছে। কারা জড়িত ও কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে দ্রুতই রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড সদ্য. ভারত থেকে আসা চালে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান, বিতরণ বন্ধ ঘোষণা সদ্য. ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ল বাইকের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর সময় সদ্য. সৌদি আরবে ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার রিয়াল দেওয়ার ঘোষণা সদ্য. ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন সদ্য. দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম সদ্য. বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত ৬ সদ্য. ব্যাটারিচালিত রিকশার সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি, নিবন্ধন বাধ্যতামূলক-ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সদ্য. একসময় ঘড়ির কারখানার শ্রমিক, এখন চীনের শীর্ষ ধনী নারী সদ্য. ‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো, সনদও ছিল; ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’ সদ্য. একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড সদ্য. ভারত থেকে আসা চালে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান, বিতরণ বন্ধ ঘোষণা সদ্য. ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ল বাইকের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর সময় সদ্য. সৌদি আরবে ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার রিয়াল দেওয়ার ঘোষণা সদ্য. ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন সদ্য. দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম সদ্য. বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত ৬ সদ্য. ব্যাটারিচালিত রিকশার সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি, নিবন্ধন বাধ্যতামূলক-ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সদ্য. একসময় ঘড়ির কারখানার শ্রমিক, এখন চীনের শীর্ষ ধনী নারী সদ্য. ‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো, সনদও ছিল; ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’