এর আগে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন হায়দার হোটেলের গলির ভেতরে ওই স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে হায়দার হোটেলের গলি ধরে এক তরুণের সঙ্গে হাঁটছে বিন্তি। কিছুক্ষণ পর পাশের অন্ধকার গলি থেকে বিন্তির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাতে বিন্তি ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাইরে যায়। কিছুক্ষণ পর হৈচৈ শুনে বাসার নিচে নেমে দেখি আমার মেয়েকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে।’
মা নাদিয়া বলেন, ‘রাতে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল নিচে নামে। সবজি কিনে বোনকে বাসার নিচে এগিয়ে দিয়ে নাবিল মসজিদে চলে যায়। এরপর হৈচৈ শুনে নিচে নেমে দেখি, বিন্তিকে ঘিরে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে।’
এ সময় সিয়াম নামে এক তরুণ বিন্তিকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে থেকে সিয়াম মোবাইলে বিন্তিকে বিরক্ত করত। এক দিন আমি তাকে মোবাইল ফোনে বকাবকি করি। এজন্য আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে সে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘বিন্তির কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম রয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।’
হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে এই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে।