গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান সারোয়ারে আলম।
তিনি জানান, ভোররাতে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে গৃধারীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সম্পাদক। তিনি গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। এর আগে তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের আমির এবং ২০১৩-১৪ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার কিছু আগে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে নিয়ে অভিযোগপত্রসহ থানায় যান। ওসির সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে তর্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশের দাবি, ওই সময় পলাশ একটি অমীমাংসিত খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে ওসিকে চাপ দেন। এতে ওসি রাজি না হলে পলাশসহ তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ওসির ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। বাধা দিতে গেলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরও মারধর করা হয়। এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় আহত সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ নয়জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মাহমুদুল হাসান পলাশকে।
অন্য আসামিরা হলেন মাহফুজ রহমান সিনহা, তৌহিদুল ইসলাম কানন, মেহেদী হাসান, সাদ্দাম হোসেন, শাওন, গোলজার রহমান, সবুজ মিয়া ও আব্দুল মালেক।
ঘটনার দিনই তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি দৈনিক গণকণ্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি খান সারোয়ারে আলম বলেন, গ্রেপ্তার মিজান এ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি। তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট