সংস্থাটির দাবি, প্রকৃত হতাহত ও গ্রেফতারের সংখ্যা সরকারি দমননীতির কারণে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
গত তিন দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক কল পরিষেবা বন্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মর্গগুলোতে জায়গা না থাকায় নতুন মরদেহ নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মর্গে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতাল প্রশাসন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরান সরকার হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিহতের সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি যত এগোচ্ছে, ততই রাজপথে সহিংসতা ও সংঘাতের মাত্রা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গণবিক্ষোভের মূল কারণ ইরানের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। মুদ্রার চরম অবমূল্যায়নে ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে নেমে এসেছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজারে, যা একে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত করেছে। এর প্রভাবে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে যে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে। বর্তমানে এই আন্দোলন শুধু জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই; বিক্ষোভকারীরা বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও তুলছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানো হয়েছে এবং দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ভাষণে অর্থনীতি পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সরকার জনগণের অভিযোগ শুনতে প্রস্তুত। তবে সরকারের এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছেন না আন্দোলনকারীরা। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ইরানের রাজপথ।