শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। তাকে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
বুধবার ২৮ জানুয়ারি বেলা তিনটার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলের শতাধিক চেয়ার এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা মিনি স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রার্থীরা মঞ্চে উঠলে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের নেতা-কর্মীরা আগে থেকেই সামনের সারির চেয়ারে বসে ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তখনো সেখানে না পৌঁছানোয় তাঁর নেতা-কর্মীরা অপেক্ষায় ছিলেন। দর্শক সারির সামনের চেয়ারে বসতে না পেরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অনুষ্ঠানস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং মঞ্চ পুরোপুরি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সূত্র: স্টার নিউজ