মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান জোরদার হওয়ায় গ্রেপ্তার এড়িয়ে সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, নথিবিহীন ও অনিয়মিত বিদেশিদের নিরাপদ ও আইনসম্মতভাবে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে মালয়েশিয়া সরকার ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’ বা পিআরএম ২.০ চালু করেছে। কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশে ফিরতে যেসব শর্ত মানতে হবে
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পিআরএম ২.০- এর আওতায় দেশে ফিরতে আবেদনকারীর বৈধ ও মেয়াদ থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে কিংবা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) সংগ্রহ করা যাবে।
এরপর দেশে ফেরার জন্য নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টের অন্তত পাঁচ দিন পর এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বিমানের যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ নেই।
আবেদনের সময় পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো ও নতুন পাসপোর্ট এবং নিশ্চিত বিমান টিকিটও সঙ্গে রাখতে হবে।
দালালকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ
অবৈধ বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, পিআরএম ২.০- এর আওতায় আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কেউ বিশেষ সুবিধা বা দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হয়ে আইনি জটিলতায় পড়ার আগেই সরকারি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির সুযোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাইকমিশন।
এ ছাড়া শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়ম ও তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে