এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় গণসংবর্ধনা পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। মুক্তির পর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, কারাগারে পাঠিয়ে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে থামানো সম্ভব নয়।
শুক্রবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রঞ্জন বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে ৩২ দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি তাকে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে কথা বলা থেকে সরাতে পারবে না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করার প্রত্যয়ও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পথচলা প্রসঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, বিএনপির সঙ্গে প্রায় চার দশক রাজনীতি করেছেন তিনি। তবে সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন তার লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে ভবিষ্যতে যত বাধাই আসুক, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার পথে কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কের কটিয়াদী সীমানায় পৌঁছালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের সংবর্ধনাস্থলে নিয়ে আসা হয়।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির সাইদুল হক বিএসসি, সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা তাদের নেতাকে বরণ করে নেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস