জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, এনসিপি বিতর্কিত ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং জামায়াত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দক্ষতা ও রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁর মেধা ও যোগ্যতার সমপর্যায়ে নন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে তাঁর ওপর দায় চাপাচ্ছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সে সময় জামায়াতের নেতাদের রাজপথে একই ধরনের প্রতিবাদে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন রাশেদ খান। তাঁর বক্তব্য, দলটি জনসমর্থন হারিয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জামায়াতের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেছেন কি না, তা দেওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভূমিকা নিয়েও এনসিপির কয়েকজন নেতার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাশেদ খান আরও বলেন, ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়কে সামনে রেখে দলটি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তাঁর মতে, এভাবে দলটি তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস