বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামে দেখা দিয়েছে বিপরীতমুখী প্রবণতা। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় চাল ও চিনির দাম বাড়লেও রপ্তানি চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন ফসল বাজারে আসায় দরপতন হয়েছে গম ও ভুট্টার। সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় পণ্যটির দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ পাউন্ড চালের দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ ডলার ১৩ সেন্টে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি পৌঁছেছে চাল। এক মাসে এর দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লেও গমের বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কমেছে। এক সপ্তাহে গমের দাম ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে বুশেলপ্রতি ৬ ডলার ৪০ সেন্টে নেমেছে। মাসের হিসাবে দরপতনের পরিমাণ ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
ভুট্টার বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি চাহিদা দুর্বল থাকায় পণ্যটির দাম নিম্নমুখী রয়েছে। বর্তমানে প্রতি বুশেল ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৪ ডলার ৬০ সেন্টে। এক সপ্তাহে দাম কমেছে ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। আর এক মাসের ব্যবধানে ভুট্টার দাম কমেছে ১৪ দশমিক ০৯ শতাংশ।
এদিকে, চালের পাশাপাশি চিনির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কার সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য চিনির দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে প্রতি পাউন্ড চিনির দাম দাঁড়িয়েছে ২১ সেন্টে, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। এক মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল ও চিনির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে গম ও ভুট্টার দাম কমছে। সরবরাহ পরিস্থিতি, রপ্তানি চাহিদা, নতুন ফসলের প্রাপ্যতা এবং জ্বালানির দামের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে এসব খাদ্যপণ্যের বাজারদর কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে