প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪:৩৩
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, আবরারের নামে বুয়েটে হল নির্মাণ এবং তার কবর ও পাশের মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার দাবিও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা।

সাক্ষাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবেই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সাক্ষাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়টিও তুলে ধরেন আবরারের বাবা। তার ভাষ্য, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ এখনো সাঁকো ব্যবহার করে নদী পার হন। স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আবরার ফাহাদের নামে এর নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় আবরারের কবর পাকাকরণ এবং কবরের পাশের মসজিদের অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করার জন্যও সহযোগিতা চান তার বাবা। প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন।

আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তার বাবা। তিনি জানান, মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবার জানতে পারে। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সাক্ষাতে আবেগঘন বক্তব্যে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মাকে সন্তানের এমন পরিণতি দেখতে না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীকে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি হল নির্মাণের দাবি তোলেন তিনি। এ দাবির পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

আবরার ফাইয়াজ আরও দাবি করেন, নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের ঘটনা সম্পর্কে জানাতে তার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। জুলাই আন্দোলনের নিহতদের তালিকার পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন সময়ে নিহতদেরও তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।

সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন আবরার।

এর আগে ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং ওই সফরে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আবরার।

পরদিন রাতে তাকে হলে ডেকে নিয়ে ওই পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হলের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ঘটনার পর বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। হত্যার বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

আবরারের বাবা ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ডিবি ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলায় ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

সদ্য সংবাদ/এসএস

জাতীয় ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত, দ্রুতই দেওয়া হবে চার্জশিট সদ্য. পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের দাবি সদ্য. কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ সদ্য. নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ সদ্য. জুলাইয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বেশি নেতাকর্মী শহিদ হয়েছে: রাশেদ খাঁন সদ্য. রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে ফসলি জমিতে মিলল কিশোরীর মরদেহ সদ্য. সব ইসলামী দল এক হলেও আমরা ক্ষমতায় যেতে পারবো না: সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা সদ্য. পানির ন্যায্য হিস্যায় ভারতকে কোনো ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সদ্য. ডোপ টেস্টের আগেই থানা থেকে পালাল পুলিশ কর্মকর্তা সদ্য. রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত, দ্রুতই দেওয়া হবে চার্জশিট সদ্য. পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের দাবি সদ্য. কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ সদ্য. নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ সদ্য. জুলাইয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বেশি নেতাকর্মী শহিদ হয়েছে: রাশেদ খাঁন সদ্য. রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে ফসলি জমিতে মিলল কিশোরীর মরদেহ সদ্য. সব ইসলামী দল এক হলেও আমরা ক্ষমতায় যেতে পারবো না: সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা সদ্য. পানির ন্যায্য হিস্যায় ভারতকে কোনো ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সদ্য. ডোপ টেস্টের আগেই থানা থেকে পালাল পুলিশ কর্মকর্তা