দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুর্নীতিবাজ যত ক্ষমতাবানই হোন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংয়ে বাসসকে বিষয়টি জানান।
সাক্ষাতে দুদকের চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কর্মকাণ্ড, বর্তমানে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি যেসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতাও চান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম এবং জবাবদিহির ঘাটতির কারণে দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর দেশের অগ্রগতি এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভরশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দুদককে দৃঢ়তা, সততা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুর্নীতিবিরোধী মানসিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদারের তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। দুদক যাতে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে, সে জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর