দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে, তবে কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানো নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তার অভিযোগ, বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি মহল কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর উপজেলা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও নিবন্ধিত সার ডিলারদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সার সরবরাহ, মজুত ও কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পঞ্চগড়ে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ সার সরবরাহ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে এ জেলায় সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এজন্য জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। ১০ থেকে ২০ কেজি সার কেনার জন্য অনেক কৃষককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত লাইনে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তার মতে, মূল সমস্যা সার উৎপাদন বা সরবরাহে নয়, বরং ডিলারদের কাছ থেকে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায়। এ পরিস্থিতি কাটাতে ডিলার সংকট দূর করার পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আগের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের কেউ কেউ বর্তমানে এলাকায় নেই। আবার অনেকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে দায়িত্ব পালন করছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সার পৌঁছানোর পরও কৃষকের কাছে তা যথাযথভাবে বিতরণ হচ্ছে না।
ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য পরিপত্র জারি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ইউনিয়নভিত্তিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ডিলার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, কোনো ইউনিয়নে ডিলার না থাকলে পাশের ইউনিয়ন বা উপজেলার বাসিন্দাদের ডিলার হওয়ার কারণে যে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তা দূর করতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথাও জানান তিনি।
ডিলার হওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নির্ধারিত কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি অন্তত ২৫ টন সার রাখার সক্ষমতাসম্পন্ন গুদাম থাকার শর্ত থাকবে।
নতুন বিতরণ কাঠামোয় একজন ডিলার সর্বোচ্চ দুজন সাব-এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন বলেও জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের কাছেও সহজে সার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সার নিয়ে বাজারে অনিয়ম ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দামের সার অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গোপন স্থানে বা রাতের বেলায় বেশি দামে সার বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনার কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা উপপরিচালক আব্দুল মতিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সার ডিলার, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস