বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাহত ৬২ কেন্দ্র, লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রাজধানীসহ সারাদেশ

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৮:১৩
সংগৃহীত

গ্যাসের সংকট, কয়লা ও তরল জ্বালানির ঘাটতি এবং একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ চলায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৬২টি কেন্দ্রে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অন্য ৪২টি কেন্দ্র চালু থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ সময়ে লোডশেডিং ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে পৌঁছে যায়। চলতি মৌসুমে এর চেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল ১০ আগস্ট, সেদিন সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। তবে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিতে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে শিল্প খাতে গ্যাস দেওয়ার কারণে উৎপাদন আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রাজধানীর বাইরে বেশ কিছু এলাকায় আগে থেকেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি ছিল। তবে গত ১২ আগস্ট থেকে ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) নির্দিষ্ট এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করলেও অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বহুতল ভবনের বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট বন্ধ হয়ে আটকে পড়ার আশঙ্কার পাশাপাশি পানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের ব্যস্ত সময় ও রাত- দুই সময়েই বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতিও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। দেশের আটটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে রয়েছে। পায়রা ও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

কয়লা সরবরাহে ঘাটতির কারণে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমেছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন সীমিত থাকলেও বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কিছুটা বেশি সরবরাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানেও রয়েছে জ্বালানি সংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইমরান করিম মনে করেন, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলসহ পিডিবির সঙ্গে থাকা বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। এতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে।

শুধু বিদ্যুৎ নয়, একই সময়ে গ্যাস সরবরাহেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বৃহস্পতিবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২৩৫ কোটি ঘনফুট।

মহেশখালীতে থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলোর একটি গত জুলাইয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। পরে টার্মিনালটি চালু হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলমের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির প্রভাবই এখন সাধারণ মানুষকে ভোগাচ্ছে। তার মতে, এলএনজি আমদানি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বন্ধ বা সীমিত সক্ষমতায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা না গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সদ্য সংবাদ/এসকে

জাতীয় ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সৌদি আরবে হুথি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ সদ্য. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করল মাউশি সদ্য. দেশে পৌঁছেছে সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশির মরদেহ সদ্য. এনসিপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সদ্য. তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৬ সদ্য. আজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে দোকানপাট ও শপিং মল সদ্য. বাংলাদেশে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান: নিক্কেইর প্রতিবেদন সদ্য. দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত সদ্য. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. সৌদি আরবে হুথি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ সদ্য. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করল মাউশি সদ্য. দেশে পৌঁছেছে সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশির মরদেহ সদ্য. এনসিপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সদ্য. তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৬ সদ্য. আজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে দোকানপাট ও শপিং মল সদ্য. বাংলাদেশে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান: নিক্কেইর প্রতিবেদন সদ্য. দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত সদ্য. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান