রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা এক নারী আসামি কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পলাতক ওই আসামির নাম মিতু আকতার। তিনি একটি হত্যা মামলায় আদালতের দেওয়া তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে যাত্রাবাড়ী থানার ভেতর থেকে মিতু পালিয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাকে আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিতু আকতারকে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ছিল তার রিমান্ডের শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল।
এর মধ্যেই সকালে থানার ভেতর থেকে কৌশলে বেরিয়ে যান মিতু। পুলিশ বলছে, নারী আসামিদের ক্ষেত্রে সাধারণত হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় তিনি সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন। একপর্যায়ে থানার গেটের তালা খুলে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থানায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলসহ মোট চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহসীন মাসুদ রানা জানান, হত্যা মামলায় মিতু আকতারকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর কথা ছিল। এর আগেই তিনি পুলিশ হেফাজত থেকে বেরিয়ে যান।
তিনি বলেন, ঘটনার পর পলাতক আসামিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। একই সঙ্গে কীভাবে তিনি থানার নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে বেরিয়ে গেলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের গাফিলতির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে থানার মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থান থেকে রিমান্ডে থাকা একজন আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস