ডপলার জরিপ

সরকারের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টি বেশি

সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২০ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২০:৫৬
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে করা এক জনমত জরিপে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টির হার বেশি পাওয়া গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ভালো করছেন। তবে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির হার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে ‘ডপলার অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এর ফল প্রকাশ করা হয়। ডপলার ওপিনিয়ন রিসার্চ পরিচালিত এ জরিপে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম, দেশের গতিপথ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ নিয়ে মানুষের মতামত তুলে ধরা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। আর ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মতামত দেননি বা উত্তর দিতে চাননি।

বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। দেশের আট বিভাগেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি।

রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর কাজ নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, এনসিপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মনে করেন।

দেশের গতিপথ নিয়ে বিভক্ত মত

দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না- এ প্রশ্নে অবশ্য মানুষের মতামত তুলনামূলকভাবে বিভক্ত। জরিপে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশের মত, দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। আর ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি।

রাজনৈতিক পরিচয়েও এ ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ দেশের গতিপথকে ইতিবাচক মনে করলেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে এ হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ

জরিপে দেশের বড় সমস্যা হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশের মতে, দ্রব্যমূল্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ কর্মসংস্থানকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এসব খাতের সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়েও নেতিবাচক মূল্যায়ন এসেছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সরকার খারাপভাবে সামলাচ্ছে বলে মনে করেন ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা। জ্বালানি ও গ্যাস ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ।

শিক্ষা খাতে ইতিবাচক মূল্যায়ন

জরিপে সাতটি খাতে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে শুধু শিক্ষা খাতেই তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার শিক্ষা খাত ভালোভাবে পরিচালনা করছে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থায় চাপ

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তবে আগামী এক বছর নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা কিছুটা ইতিবাচক। ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী ১২ মাসে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। ২৪ দশমিক ৩ শতাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ এখন আগের চেয়ে কম আশাবাদী।

ফ্যামিলি কার্ডে ব্যাপক সমর্থন

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ উদ্যোগের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারের করনীতি সমর্থন করেছেন ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। গণভোটের রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মনে করেন ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা।

বিরোধী নেতাদের নিয়েও জনমত

বিরোধী দলের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়েও জরিপে মতামত নেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কর্মকাণ্ডকে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। আর এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে এ দুই নেতার কার্যক্রম মূল্যায়নের মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উত্তরদাতা।

নারী-পুরুষের নিরাপত্তাবোধে পার্থক্য

রাতে নিজ এলাকায় একা চলাচলের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের নিরাপত্তাবোধেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ জানিয়েছেন, অন্ধকারের পর একা চলাচলে তারা নিরাপদ বোধ করেন। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্ম পালন করতে তারা নিরাপদ বোধ করেন।

যেভাবে পরিচালিত হয়েছে জরিপ

জরিপে মোট ১০ হাজার ৪১৩টি নম্বরে ফোন করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জন কম্পিউটার সহায়তায় টেলিফোন সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। উত্তর পাওয়ার হার ছিল ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ।

দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রাম থেকে উত্তরদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে জরিপের ফল ভারসাম্যপূর্ণ করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সরকারের জন্য সতর্কবার্তা

জরিপের ফল বিশ্লেষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শান বলেন, নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত জনমত যাচাই করা প্রয়োজন। তার মতে, নির্বাচনের বাইরে জনমত সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, জরিপের ফল থেকে ধারণা করা যায়, সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ প্রায় শেষের দিকে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সরকারের জন্য স্বস্তির বিষয় হলেও মন্ত্রিসভার সামগ্রিক কার্যক্রমে একই মাত্রার সন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে জরিপের ফলাফল বলছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানুষের আস্থা সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় বেশি। তবে দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-জ্বানি, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা ও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সদ্য সংবাদ/এসকে

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. একাদশে ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ সদ্য. ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৭৫৩ সদ্য. অক্টোবরেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত সদ্য. একনেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন সদ্য. হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী সদ্য. পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা সদ্য. আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার গুলশান জোনের ডিসি প্রত্যাহার সদ্য. আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত-পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের মাঝে সংঘর্ষ সদ্য. ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গোবিপ্রবি ভিসিকে উদ্ধার, পরদিন সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ সদ্য. হুথিদের ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি সদ্য. একাদশে ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ সদ্য. ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৭৫৩ সদ্য. অক্টোবরেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত সদ্য. একনেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন সদ্য. হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী সদ্য. পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা সদ্য. আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার গুলশান জোনের ডিসি প্রত্যাহার সদ্য. আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত-পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের মাঝে সংঘর্ষ সদ্য. ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গোবিপ্রবি ভিসিকে উদ্ধার, পরদিন সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ সদ্য. হুথিদের ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি