পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানের রহিম বাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দির সিলগালা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মন্দিরের জায়গায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে শনিবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, এর আগে মন্দিরটি ভাঙার উদ্যোগের প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা হস্তক্ষেপ করেন। জনসাধারণের বিক্ষোভের মুখে সহকারী কমিশনার হামিদ সিদ্দিক স্থাপনাটি সিলগালা করেন এবং সেখানে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ শনিবার আবারও মন্দিরটি তালাবদ্ধ করে সিলগালা করা হয়।
এদিকে মন্দিরটি ভেঙে সেখানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কথিত উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। এ বিষয়ে আলোচনা করতে তাঁরা যৌথ বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রস্তাবিত নির্মাণকাজের নিন্দা জানানো হয় এবং বিষয়টি জাতীয় পরিষদে উত্থাপনের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নাগরিক সমাজের সভাপতি সোহেল আহমেদ আজমির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কিশোর কুমার, সমাজকর্মী মুহাম্মদ নওমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ডেরা ইসমাইল খানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৪০০টি স্থাপনার মধ্যে রামলীলা মন্দিরও রয়েছে। এসব স্থাপনা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের তালিকাভুক্ত বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হলে শহরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। এ ধরনের পদক্ষেপ ঠেকাতে নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, লেখক ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আগ্রহী ব্যক্তিরা একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলেও জানান।
বৈঠকে আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও মন্দিরের জায়গায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, জাতীয় পরিষদের স্পিকার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
সূত্র : ডন
সদ্য সংবাদ/এসএস