জাপানের ওকিনাওয়া প্রদেশে এক জাপানি নারীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন এক সেনাসদস্য গ্রেপ্তারের পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের জন্য সেনাদের চলাচলে কারফিউ জারি করার পাশাপাশি মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
জাপানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর নাহা শহরের একটি হোটেল থেকে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নির্ধারিত সময়ে ওই নারী হোটেল থেকে বের না হওয়ায় কর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
এ ঘটনায় ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন সেনা ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, হোটেল কক্ষে ইয়াগির গলায় চাপ দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়। পরে ওই নারীর ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে সেখান থেকে চলে যান ব্যালার্ড। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ব্যালার্ডকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তাকে শনাক্ত ও আটকের অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
ঘটনার পর ওকিনাওয়ায় থাকা মার্কিন সেনাদের জন্য নতুন করে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেনাসদস্যদের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাসদস্যদের প্রতিটি আচরণ দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। কোনো ঘটনায় সেই আস্থা নষ্ট হলে তা শুধু সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তিই নয়, বরং জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত নৃশংস বলে উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে ওকিনাওয়া ও টোকিওতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিতই অভিযোগ ওঠে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি হওয়ায় ওকিনাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। জাপানে থাকা প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বড় একটি অংশ এই অঞ্চলে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেও ছিল।
এর আগেও মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ঘিরে ওকিনাওয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। ১৯৯৫ সালে এক কিশোরীকে তিন মার্কিন সেনার ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। নতুন হত্যাকাণ্ড সেই পুরোনো ক্ষোভকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নিয়ে ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে জাপানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস