সিরাজগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন শর্মি ইসলাম নামে এক নারী। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলি ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল আভিসিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শর্মি ইসলাম। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের গোশালা এলাকার বাসিন্দা শর্মি ইসলাম গর্ভাবস্থার শুরু থেকে সদর হাসপাতাল রোডের দি থাইরো কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
শর্মি ইসলামের অভিযোগ, গত ২৪ আগস্ট ডা. তুলি তাঁকে ৫ সেপ্টেম্বর আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে সন্ধ্যার পর চেম্বারে দেখাতে বলেন। একই সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বরকে সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রসবব্যথা উঠলে আভিসিনা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ফোন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এ সময় যোগাযোগের জন্য নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও দেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে শর্মির তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হলে স্বজনরা তাঁকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আভিসিনা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল পর্যন্ত ডা. তুলির ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরে হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যোগাযোগ সম্ভব হলেও ডা. তুলি হাসপাতালে এসে রোগীকে দেখেননি এবং বারবার অনুরোধের পরও জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন শর্মি।
শর্মি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার পরও বিকল্প কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা কিংবা অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
একপর্যায়ে তীব্র প্রসবব্যথা ও রক্তপাত শুরু হলে মা ও গর্ভের শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। পরে দুপুর ১২টার দিকে শর্মিকে আভিসিনা হাসপাতাল থেকে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসায় শর্মির জীবন রক্ষা পেলেও গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শর্মি ইসলাম বলেন, “চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আমি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করছি না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলি বলেন, “মিডিয়াতে আমি কোনো বক্তব্য দেব না। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তাই তদন্ত কমিটির কাছে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করব। আপনারা সেখান থেকে জেনে নিতে পারেন।”
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
সদ্য সংবাদ/ এআর