পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন পুলিশের হাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান তিনি। হুমায়ুনের অভিযোগ, কোনো স্পষ্ট কারণ না দেখিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনাকে তিনি হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভার কার্যক্রম বয়কট করার ঘোষণাও দেন।
এর আগে মঙ্গলবার রেজিনগরে ভোটগ্রহণ শুরুর পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আইনভঙ্গের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাতে তিনি মুক্তি পান। পুলিশের বক্তব্য, ওই সময় হুমায়ুন কবীর নির্বাচনের প্রার্থী বা পোলিং এজেন্ট ছিলেন না এবং নির্দিষ্ট এলাকায় তার উপস্থিতি নিয়ে আইনভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।
আটকের ঘটনার সমালোচনা করে হুমায়ুন বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে আগ্রহী নন। তবে রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
নওদা ও রেজিনগর দুই আসন থেকেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে তার ছেলে গোলাম নবী আজাদ এজেইউপির প্রার্থী হন।
হুমায়ুন জানিয়েছেন, নওদার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এলাকায় থাকবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিধানসভার পাশাপাশি বিভিন্ন সংসদীয় কার্যক্রম থেকেও নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন হুমায়ুন। মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির মতো সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন হুমায়ুন কবীর। ওই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস