বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করছে ইতালি। দেশটির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত—তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।
ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কর্মী নিয়োগের কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জন অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জন কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জন স্বনিয়োজিত পেশায় নিয়োগ পাবেন। এ ছাড়া পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতে অমৌসুমি কোটার আওতায় ১৪ হাজার কর্মীর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদন করবেন যেভাবে
২০২৭ সালের কর্মী নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র প্রাক্-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ কার্যক্রম শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টায়। এ কার্যক্রম চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘Portale Servizi ALI’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
তবে সাধারণত বিদেশি কর্মীরা নিজেরা সরাসরি এই কোটার আওতায় আবেদন করতে পারেন না। ইতালিতে অবস্থানরত নিয়োগকর্তা অথবা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য কাজের অনুমতিপত্র বা ‘নুল্লা ওস্তা’ (nulla osta) পেতে আবেদন করেন। অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মী নিজ দেশে অবস্থিত ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ বা আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন খাতভেদে আলাদা রাখা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের ক্ষেত্রে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইতালি। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নিয়োগের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিয়োগের আবেদন সম্পন্ন হয়। তাই চাকরি কিংবা ভিসার প্রলোভনে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং ‘নুল্লা ওস্তা’র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
সদ্য সংবাদ/ এআর