মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবির পর বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও শুক্রবারও তা ১০৫ থেকে ১০৬ ডলারের আশপাশে ছিল।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবুর দিকে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর হুথিদের পক্ষ থেকে রিয়াদে একটি ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’ এবং ইয়ানবুতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে তা কিছুটা কমে যায়। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১০৫ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিস্তৃতি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও ইয়ানবু অঞ্চল সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে যেকোনো বড় ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনেও হামলার পর দেশটির তেল রপ্তানির পথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের খবরও এসেছে। ফলে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা, অন্যদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ- দুই দিকের ঘটনাই এখন নজরে রাখছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বিনিয়োগকারীরা।
সদ্য সংবাদ/এসকে