ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও সামরিক অবকাঠামোর পরিমাণ কমানোর বিষয়ে দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে সামরিক উপস্থিতি বাড়ায় ওয়াশিংটন। পরবর্তী সময়ে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী। এসব কার্যক্রমের সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।
তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
ইরাক যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে সময় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে সেনা সংখ্যা কমলেও তা কখনো এক লাখের নিচে নামেনি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। পাশাপাশি দুটি রণতরীসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এমন একটি পর্যায়ে সেনা উপস্থিতি নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
শুধু সেনার সংখ্যা কমানো নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব মার্কিন সেনা অবস্থান করবে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সামরিক স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবকাঠামো ভূগর্ভস্থ করার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করা সিআইএর কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও তাদের পুনরায় ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ যুদ্ধের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর চেষ্টা চলছিল। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সদ্য সংবাদ/এসএস