বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার শেখ মো. মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, প্রতারণা, হুমকি ও বৈবাহিক সম্পর্ক অস্বীকারের অভিযোগ তুলেছেন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক নিউজ প্রেজেন্টার। তার দাবি, দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালে ধর্মীয় রীতিতে তাদের আকদ হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে তাকে একা করে দেন মাহফুজুল হক।
অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য, ২০২২ সাল থেকে মাহফুজুল হকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে তাদের আকদ হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সম্পর্কের পক্ষে বিভিন্ন নথি ও তথ্যও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আকদের পর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতোই জীবনযাপন করছিলেন। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি গর্ভবতী হন। তার দাবি, তখন মাহফুজুল হক তাকে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা এবং ডিএনসি করা হয় বলেও জানান তিনি।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। এরপর হঠাৎ করেই মাহফুজুল হক তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও একটি জিডি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী সদ্য সংবাদকে বলেন,“উনার সঙ্গে আমার সাড়ে চার বছরের সম্পর্ক। আকদ হয়েছে, ধর্মীয় রীতিতে আমাদের বিয়ে হয়েছে। পরবর্তীতে আমি কনসিভ করি। এই বাচ্চা কনসিভ করাকে কেন্দ্র করেই তিনি আমার প্রতি মামলা করেছেন। তিনটি মামলা করেছেন, একটি জিডি করেছেন যেটি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অজানা ছিলাম।”
তার অভিযোগ, বিষয়টি জানতে মাহফুজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো ব্যাখ্যা পাননি। বরং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী সদ্য সংবাদকে আরও বলেন, গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাহফুজুল হকের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি কোনো ধরনের ভরণপোষণও পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় বিষয়টি সমাধানের আশায় মাহফুজুল হকের কর্মস্থলে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু তার দাবি, অভিযোগ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং উল্টো তাকেই হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি বলেন,“আমি একটা জায়গায় চাকরি করি। শুধুমাত্র তার কারণে ছয় মাস ধরে বাড়িতে বসে আছি। আমি আর্থিক, মানসিক, শারীরিক, পারিবারিক ও সামাজিক সব দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন, সেটি আমার বোধগম্য নয়।”
ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, তাদের সম্পর্কের সময় তাকে আংটি পরানো হয় এবং চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে আকদ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, মাহফুজুল হকের আগের একটি স্ত্রী রয়েছে এবং তার একটি মেয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এমন তথ্যও তিনি জানেন বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাহফুজুল হক তাকে বাড়ি বা গাড়ি কিছুই দেননি। তবে সম্পর্ক চলাকালে প্রতি মাসে বাজার খরচ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতেন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগকারী আরও জানান, বর্তমানে মাহফুজুল হক কুমিল্লায় বদলি হয়েছেন।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, সম্পর্কের সময় মাহফুজুল হক তাকে বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করতেন এবং একাধিকবার ঢাকার বাইরে নিয়ে গিয়েছেন। এমনকি একটি রিসোর্টে তাদের অবস্থানের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, সম্পর্কের সময় ঘনিষ্ঠতা ও দাম্পত্য জীবনের পর এখন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর বলেন, আমি একটা প্রতারণার শিকার হয়েছি। এরপর যখন বিষয়টি জানতে গেলাম, তখন আমাকে আরও হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, সারা বাংলাদেশে আমার নামে মামলা করবেন। গত ছয় মাস ধরে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, কোনো ভরণপোষণও দিচ্ছেন না।
অভিযোগকারী আরও জানান, বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে পিডিবিতে অভিযোগ করার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। বরং তার দাবি, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাকেই নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ মো. মাহফুজুল হকের সাথে সদ্য সংবাদ টিম যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফেন রিসিভ করেননি।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। একই সঙ্গে সম্পর্ক, আকদ, গর্ভপাত, মামলা, হুমকি এবং কর্মস্থলে করা অভিযোগ সব বিষয়ের নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি তার।
সদ্য সংবাদ/এসএস