মুন্সীগঞ্জে এক সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রাজীব হাসান অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কাটাখালীর নিজ বাসা থেকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে দৈনিক মানবজমিনের ডিজিটাল বিভাগের রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা কাজী হাবিবুর রহমানকে মুক্তারপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি টাকা দিতে রাজি হন।
এরপর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, মুন্সীগঞ্জ শাখায় নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলেন হাবিবুর রহমান। পরে স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের হাতে ওই টাকা তুলে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে মুন্সীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান। অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হাসান, তার সহযোগী স্বপন (৩৫), কাটাখালী এলাকার সোহেল (৪৫) এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগের পর মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে রাজীব হাসান অপু ও তার সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করে।
সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি মেনে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয় এবং বলা হয়, টাকা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে অভিযুক্তদের লোকজন তাঁর বাবার কাজী অফিসের দিকে তাকাবে না। মামলা করলে পরিণতি কী হতে পারে, সে বিষয়েও তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি কারও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার বাবাকে অপহরণ করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিচার করা হোক।’
সদর থানার ওসি তছলিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে তাদের থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের রাজীব হাসান অপুকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
সদ্য সংবাদ/ এআর