চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে তিন বাহিনীর দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান ও মহড়া পরিচালনা করেন। অভিযান শেষে পুলিশ সুপার বলেন, ভবিষ্যতে নাশকতার কোনো চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সন্ত্রাসীরা ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, কাউকে উচ্ছেদ বা এলাকা থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক দূর করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদেরও সতর্ক করা হচ্ছে। অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য এলাকাবাসীকে ক্যাম্পের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের কয়েকজন গোপনে রাতে এলাকায় প্রবেশ করছে। তাদের অনুসারীরাও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
গত ৯ মার্চ যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন। তবে সন্ত্রাসীদের ‘বাদশা’ হিসেবে পরিচিত ইয়াসিন, রোকন মেম্বার ও ছিন্নমূল নেতা মশিউর এখনো গ্রেপ্তার হননি। তারা আত্মগোপনে থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির সদস্যরা গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত অক্টোবরে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হন। ওই ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের একাধিক সদস্য আহতও হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে একটি চক্র পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে আত্মগোপনে থাকা রোকন মেম্বারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেসব ছবি ও ভিডিওতে ওই সময় সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা যায়। গোলাগুলি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় করা মামলায় রোকন মেম্বারকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর