ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইওয়ে থানার সামনে অস্ত্র প্রদর্শন করে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনায় হামিদুল গাজী (৪২) ও তাঁর বান্ধবী শিমু আক্তার তিশাকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও পয়েন্ট ২২ বোরের একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল ঢাকার বনানীর একটি হোটেল থেকে হামিদুল গাজী ও শিমু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরে হামিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয় ওই ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি।
জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা গ্রামে হামিদুলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকেও রিভলবারটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে ভাঙ্গা গোলচত্বর হাইওয়ে থানার সামনে একটি রেস্তোরাঁর কাছে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে হামিদুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি সঙ্গে থাকা রিভলবার বের করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর গাড়িতে থাকা শিমু আক্তার তিশাকে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনাটি নিয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন এসআই প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। তাঁর করা মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামিদুল গাজী মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে শিমু আক্তার তিশার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। বর্তমানে তাঁরা ঢাকার রূপনগর সরকারি কোয়ার্টার এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিমু আক্তার তিশা ‘ফাতেমা ইসলাম এনি’ নামেও পরিচিত।
হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই নয়টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর সঙ্গে ভাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি।
সদ্য সংবাদ/ এআর