চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ওই নারীকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নগরের বিশ্ব কলোনি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে এএসআই নুরুন্নবী মুন্না ও ওই নারীকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে আকবরশাহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসীর ভাইয়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীর স্বামী ২০১৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব নেন তার ছোট ভাই। এ সময় আকবরশাহ থানায় দায়িত্ব পালনের সূত্রে ২০২১ সালে ওই নারীর সঙ্গে নুরুন্নবী মুন্নার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এএসআই মুন্না বিশ্ব কলোনির ওই ফ্ল্যাটে যান এবং সেখানে রাত কাটান। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দুজনকে সেখানে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন।
এদিকে মামলায় ওই ফ্ল্যাট থেকে প্রবাসীর পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। স্বর্ণের মূল্য প্রায় ২৬ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে পুলিশ এএসআই মুন্না ও ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে আকবরশাহ থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৯৪, ৪৯৭, ৩২৩, ৩৮০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এএসআই নুরুন্নবী মুন্নাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই নারীকেও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীর ভাইয়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস