পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নেওয়া প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। প্রকল্পটিকে তিনি বড় ধরনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যারেজ নির্মাণের ফলে কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মাছ চাষ ও ফসল উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের যেকোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও পানির ন্যায্য হিস্যার ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত স্বার্থও তখন তুলে ধরা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়াও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজের মতো প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়েছে।
তিতুমীর বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের সূচনা। ভবিষ্যতে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকা প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল পেতে পারেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস