কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির মাঝখানে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আট দিন ধরে নারী ও শিশুসহ দুটি পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের বড়বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রাতের আঁধারে কয়েকটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় এলাকায় নিন্দা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ঘোড়াশাল গ্রামের আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল ইসলাম ও মহসিন মিয়াদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেশী জিয়া উদ্দিন ও দেলোয়ার মাস্টার গংদের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জের ধরে গত ২৫ আগস্ট রাতে জিয়া উদ্দিন গংদের অনুসারীরা বাড়ির মধ্যে বেড়া দিয়ে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ সদস্যদের আট দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহসিন মিয়া বলেন, “আমার পূর্বপুরুষ থেকে পরিবার প্রায় ১০০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু আমার প্রতিবেশী জিয়া উদ্দিন মাঝেমধ্যে আমাদের হুমকি দিচ্ছে এবং আমার বাড়ি দখল করতে চায়। আমার ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে যাবে। এখন সে আমার চারদিকে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখছে। আমি কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমি অসহায় হওয়ায় কোনো কিছু করতে পারছি না। তারা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ি দখল করতে রাতের আঁধারে এই কাজ করেছে।”
মহসিন মিয়ার স্ত্রী বলেন, “এই সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আঁধারে আমাদের ঘরের চারপাশে বেড়া দিয়ে আমাদের বন্দি করে রেখেছে। আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখে তারা গাছ কেটে নিয়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে, বাথরুম ভেঙে দিয়েছে। আমরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি।”
আরেক ভুক্তভোগী সুলতানা বলেন, “জিয়া উদ্দিন রাস্তার নাম করে আমার সব গাছপালা কেটে নিয়ে যায়। আমি জানতে পেরে স্থানীয় মনির মিয়ার মাধ্যমে বাধা দিলেও তাতে কর্ণপাত না করে জিয়া উদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সব গাছপালা কেটে নিয়ে যায়। সে অনেক দিন যাবৎ আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। তাকে বাধা দিলে সে বলে, এসব আমার জায়গা, গ্রামে তোদের এখানে কোনো জায়গা নাই, তোদের বাড়ি এখানে না। সে বলে, গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে এই জায়গা দিয়ে দিয়েছে। তার জন্য সে আমার ঘরের সামনে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়। সে এমনভাবে বেড়া দেয় যে, আমরা আমাদের ঘরে পর্যন্ত ঢুকতে পারি নাই।”
শ্রমিকদল নেতা আমানুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সম্পত্তি রক্ষা করতে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত ১৩ আগস্ট তারিখে উক্ত ভূমিতে ১৪৫ ধারা জারি করলেও ২৫ তারিখে রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউদ্দিন এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের পুরো বাড়ি বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে দখল করে ফেলে। আদালতের আদেশকে কোনো তোয়াক্কাই করেনি তারা।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে অনেকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে, কিন্তু এর কোনো সমাধান করতে পারেনি। আমাদের দলিল থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসী জিয়া উদ্দিনের শাস্তি চাই।”
এ ব্যাপারে জানতে জিয়া উদ্দিন ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাকিব হাসান খান বলেন, “এই বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সদ্য সংবাদ/ এআর