বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের পাঁচ জেলায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে এসব ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হাতাহাতি ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে পটুয়াখালীর গলাচিপায়। সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও র্যালি শেষে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পৌরশহরের বটতলা মোড় এলাকায় শুরু হওয়া উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে আহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
বরিশাল নগরীতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে মিছিলের সামনের সারিতে অবস্থান এবং স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয়। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপ ও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। জমজম টাওয়ার এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে যায়। এ সময় শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তও আহত হন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতেও নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মিশনপাড়া থেকে বের হওয়া মিছিলটি চাষাঢ়া সমবায় মার্কেট এলাকায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্য নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন পথচারীও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো কর্মসূচিতে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ পৃথকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস