ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার আমুয়াকান্দা মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন একটি পুকুর ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। তবে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের আড়ালে দোকান বরাদ্দ, অগ্রিম অর্থ আদায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ফুলপুর এলাকায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরটি বালু দিয়ে ভরাট করে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুলপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম সিরাজুল হকের নেতৃত্বে এসব কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে একেএম সিরাজুল হকের নিকট কর্মচারীদের বেতন তুলে দিতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিএন্ডবি’র ওই পুকুরটি সরকারিভাবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ রফিকুল ইসলাম রয়েলের বড় দাদার কাছ থেকে অধিগ্রহণ করে। রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন,
“আমি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিজের আবেদন করেছি, কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি। অথচ এখন পৌর প্রশাসনের ব্যানার ব্যবহার করে এই জমি দখলের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে পুকুরপাড়ে থাকা ছোট দোকানগুলোতে দরিদ্র মানুষ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের নামে পুকুর ভরাট করে নতুন দোকান তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রতিটি দোকানের বিপরীতে মোটা অঙ্কের অগ্রিম অর্থ নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যেসব দোকানি এই টাকা দিতে পারছেন না, তাদের আগেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
মসজিদের মুয়াজ্জিন মিন্নত আলী জানান, “মসজিদের খেদমতের পাশাপাশি একটি দোকানে ব্যবসা করতাম। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম সিরাজুল হক বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সড়ক ও জনপদের জমিতে পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড বানিয়ে ইজারা দেবে। এখানে আমার কিছু নেই।”
তবে পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী মানুষ। সবার সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক ও লেনদেন রয়েছে।”
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফুলপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, “যদি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ বা দোকান স্থাপনের নামে সওজের জমিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও সরকারি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।