ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনী–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এক সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামে হামলার শিকার হন প্রবাসী জয়নাল আবেদীন দুলাল। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে তার মা রৌশন আরা বেগম স্ট্রোক করে মারা গেছেন। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, আগে থেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত রৌশন আরা বেগম ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্র জানায়, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজার এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক জয়নাল আবেদীন দুলালের ওপর যুবদল নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। খবর পেয়ে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় একই ইউনিয়নের উত্তর জায়লস্কর গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হাসান-সহ স্থানীয় যুবদল নামধারী আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জয়নাল আবেদীন দুলাল দাবি করেন, তার ওপর হামলার খবর শুনে তার মা ওই রাতেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় রৌশন আরা বেগম মারা যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমির গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, “রৌশন আরা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ছেলের ওপর হামলার সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ফেনী–৩ আসনে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন (মানিক) বলেন, “নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে।” তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু-র সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং দলীয় কর্মীদের সংযত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে বিএনপির নেতারা কাজ করছেন। কোনো ধরনের সহিংসতা বিএনপি সমর্থন করে না।”
ফেনী জেলা পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “জামায়াত সমর্থককে মারধরের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত মোহাম্মদ হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।