এই হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি মর্মান্তিক উদাহরণ দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরের বাসিন্দা জুবাইদা বিবির পরিবার। তার অভিযোগ, সিসিডির সশস্ত্র সদস্যরা বাড়িতে হানা দিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মেয়ের যৌতুকের টাকা লুট করে নেয়। একই সঙ্গে তার তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে তুলে নিয়ে যায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জুবাইদা বিবির পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পৃথক ‘পুলিশ এনকাউন্টার’-এ হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), আদনান (১৮) এবং তার দুই জামাতা।
জুবাইদা বিবি এইচআরসিপিকে জানান, তারা বাহাওয়ালপুর থেকে লাহোর পর্যন্ত সন্তানদের খোঁজে ছুটে যান এবং তাদের মুক্তির জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু পরদিন সকালেই পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পান। পরে আদালতে মামলা করলে পুলিশ মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতদের বাবা আবদুল জব্বার দাবি করেন, তার ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। তারা সবাই বিবাহিত, সন্তানের বাবা এবং কর্মজীবী ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এইচআরসিপি বলেছে, পাঞ্জাবের সিসিডি আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করছে, যা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নাওয়াজ শরীফের অধীনে সিসিডি গঠন করা হয়। তিনি পাকিস্তানের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের কন্যা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ভাইঝি।
এ ধরনের ‘এনকাউন্টার’ সংস্কৃতি আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।