দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাজা নাদির পারভেজ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি পানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি মোট পাঁচবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের (এমএনএ) সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে চারবার ফয়সালাবাদ এবং একবার রাওয়ালপিন্ডি থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি দুই এলাকাতেই নিজের রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং ইসলামী জামহুরি ইত্তেহাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নওয়াজ শরিফের দ্বিতীয় সরকারের সময় তিনি ফেডারেল মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ৬ পাঞ্জাব রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করা এই সেনা কর্মকর্তা ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তিনি ‘সিতারা-ই-জুরাত’ লাভ করেন। পরে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতীয় ফতেহগড় কারাগার থেকে চার সহযোদ্ধাসহ দুঃসাহসিকভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ‘সিতারা-ই-জুরাত’ অর্জন করেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পান।
প্রয়াত রাজা নাদির পারভেজ পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি সাবেক কোয়েটা কোর কমান্ডার তারিক পারভেজের ভগ্নিপতি ছিলেন। পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান টিক্কা খান তাকে একজন ‘সাহসী ও বীর সেনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
তার ইন্তেকালের খবরে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দেশের প্রতি তার অবদান, সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা এবং সামরিক জীবনের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।