শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞার নাম অনুমোদনের পর তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে শিক্ষা বোর্ডে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আহাদ মিঞা কিংবা তাঁর পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো নজির নেই। বরং মরহুম শিল্পপতি শামসুর রহমান ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদান রেখে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বা সহযোগিতায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি শামসুর রহমান কলেজ, আলহাজ্ব সফুরা বেগম মহিলা কলেজ, সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়, হাটুরিয়া জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খলিলুর রহমান ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, আলহাজ্ব সফুরা বেগম মহিলা মাদরাসা এবং আলহাজ্ব সফুরা বেগম শিশু সদন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিকে বিদ্যালয়টি রাস্তার উত্তর দিকে ছিল। ১৯৯৫ সালে শামসুর রহমান রাস্তার দক্ষিণে বর্তমান সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় এক একর জমি দান করেন। পরে তাঁর পরিবার বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, লাইব্রেরির আসবাব, ওয়াশরুম, পুরোনো ভবন সংস্কার, পুকুর ভরাট, খেলার মাঠ উন্নয়ন, মেইন গেট ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করে আসছে। এ ছাড়া পরিবারটির নামে কেনা প্রায় ৬০ শতাংশ জমি বর্তমানে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ক্রীড়া অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠানে প্রতিবছর তারা অনুদান দিয়ে থাকে।
শামসুর রহমান ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞা সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর কমিটি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শিক্ষা বোর্ড তাঁকে সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেয়।
গোসাইরহাট উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘আমি একজন বিএনপি পরিবারের লোক। আমি কখনও দেখিনি, শামসুর রহমান ও তাঁর ছেলে জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞা কখনও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসায়ী হওয়ায় তাঁরা সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁদের অনেক অবদান রয়েছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁরা জমি দান করেছেন এবং অনেক অবকাঠামো নির্মাণ করে দিয়েছেন। শামসুর রহমান দীর্ঘদিন এই বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে সকলের মতামতের ভিত্তিতে শামসুর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞাকে সভাপতি করা হয়েছে। গুটিকয়েক লোক নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞা বলেন, ‘পূর্বে স্কুলটি রাস্তার উত্তর দিকে ছিল। আমার পিতা রাস্তার দক্ষিণ পাশে তাঁর নিজ অর্থায়নে প্রায় ০১ (এক) একর জমি সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে অর্পণনামা দলিলের মাধ্যমে দান করেন এবং বিদ্যালয়টি ওই নতুন জমিতে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থা করে দেন। তাই সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার মরহুম পিতার নিঃস্বার্থ অবদানের কারণে ওই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের পরিবারের আবেগ নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।
‘আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করে আসছে। বিদ্যালয়ের স্বার্থ বিবেচনায় শিক্ষা বোর্ড আমাকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, জিয়াউর রহমান আহাদ বা তাঁর পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো নজির নেই। স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সবার পরামর্শে তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষা বোর্ড জিয়াউর রহমান আহাদ মিঞাকে সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।’