পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে সোমবার ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র কম্পনের কারণে পাহাড়ি এলাকায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আঞ্চলিক তথ্যমন্ত্রী গোলাম আব্বাস জানান, গিলগিট-বালতিস্তান প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় মাটির তৈরি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংযোগ সড়ক ও একটি প্রধান মহাসড়ক সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড় থেকে পড়ে আসা একটি পাথরের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়। সড়কগুলোতে আটকে পড়া যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা উদ্ধার তৎপরতায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে এবারের কম্পন তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গতদের জন্য জরুরি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।