পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও স্থানীয় বিএনপির সহসভাপতি। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চার আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মামলার এজাহারের বরাতে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার সঙ্গে ওই কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে পরিবারের অভিযোগ করে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে গেলে কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার চাপও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে বুধবার রাতে বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে বের হন। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জোরপূর্বক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি।
পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।