নিয়োগ হাইকোর্টের সহায়কের, দাসপ্রথার মতো কাজ করানো হয় বিচারপতির বাসায় বাবুর্চি-ধোপা-সুইপারের

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩১
উচ্চ আদালতের অফিস সহায়কদের (এমএলএসএস) আবারও বিচারপতিদের বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। তারা এই ব্যবস্থাকে ‘দাসপ্রথা’র সঙ্গে তুলনা করে তা বাতিলের দাবি জানান।

অভিযোগকারীরা জানান, সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেলেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাসা-বাড়িতে পোস্টিং দেওয়া হয় এবং সেখানে গৃহস্থালির নানা কাজে বাধ্য করা হয়। বাবুর্চি, ধোপা, ফরাশ কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও তাদের করতে হয় বলে দাবি করেন তারা। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের ভাষ্য, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই প্রথা বাতিল করেছিলেন। তবে নতুন প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি আবারও বাসা-বাড়িতে পোস্টিং দেওয়া শুরু হয়েছে।

এক ভুক্তভোগী অফিস সহায়ক বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের দায়িত্ব ছিল অফিসকেন্দ্রিক। কিন্তু দীর্ঘদিন তারা বাসা-বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। আন্দোলনের পর তারা অফিসে ফিরলেও সম্প্রতি আবার একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানান তিনি।

আরেক নারী কর্মী অভিযোগ করেন, বাসা-বাড়িতে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে অনেকেই সাপ্তাহিক ছুটি পাননি, এমনকি ঈদের দিনও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। তাদের ওপর মামলা দেওয়ার হুমকি, চাকরিচ্যুত করার আশঙ্কাও তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চাকরি হারানোর চেয়ে মৃত্যুই যেন সহজ মনে হচ্ছে তাদের কাছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিচারপতিরা প্রতি মাসে গৃহস্থালি ভাতা পেলেও বাসায় আলাদা কর্মী নিয়োগ না করে অফিস সহায়কদের দিয়েই সব কাজ করানো হয়। রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের।

আরেক কর্মী বলেন, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাজ অফিসে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনেককে বাসায় নিয়ে গিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। সেখানে নির্যাতনের শিকার হলেও তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এক নারী কর্মী জানান, বাসায় কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের অপমান সহ্য করতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সবার কাছে ‘ছোট’ হয়ে থাকতে হয় এবং সামান্য অভিযোগের ভিত্তিতেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে না পারায় একসময় তাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল। পরে আন্দোলনের পর চাকরি ফিরে পেলেও আবারও বাসায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতের ৩২ বিচারপতির বাসায় সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে গৃহস্থালির কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করলে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনে একাধিক বিচারপতির পরিবারের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসে। পরে বাসায় কাজ করানোর প্রথা বাতিল করা হয়।

তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, একজন বিচারপতি মাসে ৩২ হাজার টাকা গৃহস্থালি ভাতা পান। এছাড়া আদালতের চেম্বার ও বাসার জন্য আলাদা কর্মী সরবরাহের নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এমএলএসএস নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় হাইকোর্ট বিভাগের ৩২ বিচারপতির বাসায় ১০ নারীসহ ৭০ জন এমএলএসএসকে কাজ করানোর অভিযোগ উঠে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনে দাপ্তরিক কাজে সহায়তার জন্য ৪৫৪ জন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই এসএসসি পাস, তবে স্নাতকোত্তর বা এমবিএ ডিগ্রিধারী কর্মীও রয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এমএলএসএস পদের নাম ‘অফিস সহায়ক’ এবং তাদের কাজ অফিসকেন্দ্রিক। পুরোনো পরিপত্র অনুযায়ী তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ফাইল সংরক্ষণ ও স্থানান্তর, আসবাবপত্র সরানো, কর্মকর্তাদের সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাসা-বাড়িতে পাঠানো কর্মীদের দিয়ে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজ করানো হয় এবং সরকারি ছুটির দিনেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হয়। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. একনেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন সদ্য. পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা সদ্য. আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত-পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের মাঝে সংঘর্ষ সদ্য. গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সদ্য. ৪ দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান সদ্য. রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯৯ সদ্য. র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের গেজেট প্রকাশ করল সরকার সদ্য. প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছিল আদানি: রিজভী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা, আলোচনায় ১৬ মেগা প্রকল্প সদ্য. ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি, যাদের জন্য নেই সুযোগ সদ্য. একনেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন সদ্য. পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা সদ্য. আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত-পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের মাঝে সংঘর্ষ সদ্য. গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সদ্য. ৪ দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান সদ্য. রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯৯ সদ্য. র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের গেজেট প্রকাশ করল সরকার সদ্য. প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছিল আদানি: রিজভী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা, আলোচনায় ১৬ মেগা প্রকল্প সদ্য. ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি, যাদের জন্য নেই সুযোগ